কনটেন্টটি শেষ হাল-নাগাদ করা হয়েছে: মঙ্গলবার, ১৮ নভেম্বর, ২০২৫ এ ০৩:০৬ PM

আমাদের অর্জনসমূহ

কন্টেন্ট: পাতা

দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (DAE) এই জেলার কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং কৃষকদের আধুনিক প্রযুক্তির সাথে যুক্ত করার ক্ষেত্রে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অর্জন করেছে। দিনাজপুরকে বাংলাদেশের "শস্য ভান্ডার" হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার পেছনে এই বিভাগের গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা রয়েছে।

দিনাজপুর কৃষি বিভাগের প্রধান প্রধান অর্জনসমূহ :


১. খাদ্য উৎপাদনে উদ্বৃত্ত সৃষ্টি ও জাতীয় অবদান


  • খাদ্য উদ্বৃত্ত জেলা: দিনাজপুর দীর্ঘকাল ধরে একটি খাদ্য উদ্বৃত্ত (Food Surplus) জেলা হিসেবে পরিচিত। DAE-এর নিরলস প্রচেষ্টায় এই জেলা তার নিজস্ব চাহিদা মিটিয়ে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ খাদ্যশস্য (বিশেষ করে চাল) দেশের অন্যান্য জেলায় সরবরাহ করে জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তায় বড় ভূমিকা রাখে। প্রায় ১০ লক্ষ টন খাদ্যশস্য অন্যান্য জেলায় রপ্তানি করে।

  • উফশী (HYV) ও হাইব্রিড জাতের বিস্তার: উচ্চ ফলনশীল (উফশী) এবং হাইব্রিড ধানের জাত, বিশেষ করে সুগন্ধি চিকন ধানের আবাদ বাড়িয়ে মোট উৎপাদন বৃদ্ধি নিশ্চিত করা হয়েছে।


২. ফসলের বহুমুখীকরণ ও উৎপাদন বৃদ্ধি


দিনাজপুর কৃষি বিভাগ শুধুমাত্র ধানের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে বিভিন্ন ফসলের চাষে সাফল্য অর্জন করেছে:

  • ভুট্টা (Maize) উৎপাদন: ভুট্টা চাষকে জনপ্রিয় করা হয়েছে, ফলে এর উৎপাদন ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং এটি একটি লাভজনক অর্থকরী ফসল হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে।

  • আলু উৎপাদন: আলু চাষ ও উৎপাদনে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে।

  • তেল ও ডাল জাতীয় ফসল: কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির মাধ্যমে তেল (যেমন সরিষা) এবং ডাল জাতীয় ফসলের আবাদ বাড়ানোর কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়িত হচ্ছে, যা দেশের পুষ্টি নিরাপত্তা এবং ভোজ্য তেলের আমদানি নির্ভরতা কমাতে সহায়তা করছে।

  • আম ও লিচু: দিনাজপুর তার লিচুর জন্য জাতীয়ভাবে সুপরিচিত। DAE এর মাধ্যমে আধুনিক লিচু বাগান ব্যবস্থাপনা এবং নতুন জাতের সম্প্রসারণে ব্যাপক সফলতা এসেছে। দিনাজপুর জেলা হতে বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আম ও লিচু রফতানি হচ্ছে।

৩. আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণ


কৃষি বিভাগ কৃষকদের মধ্যে আধুনিক ও টেকসই কৃষি প্রযুক্তি প্রচলনে নেতৃত্ব দিচ্ছে:

  • জলবায়ু-সহনশীল ফসল: জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় খরা বা বন্যা সহনশীল ধান, ভুট্টা ও গমের জাতের গবেষণা ও সম্প্রসারণে জোর দেওয়া হয়েছে।

  • সার ও সেচ ব্যবস্থাপনা: জমিতে সু-ষম মাত্রায় সার ব্যবহার, গুটি ইউরিয়ার ব্যবহার বৃদ্ধি এবং পানি সাশ্রয়ী সেচ প্রযুক্তি যেমন পার্চিং (Perching) ও আধুনিক চাষাবাদের কৌশল জনপ্রিয় করা হয়েছে।

  • মাটির স্বাস্থ্য সুরক্ষা: মাটির স্বাস্থ্য সুরক্ষার লক্ষ্যে জৈব সার ও সবুজ সার তৈরি ও ব্যবহারে কৃষকদের উৎসাহিত করা হয়েছে।

  • বালাই দমন: ব্লাস্ট রোগ ও বাগামী গাছ ফড়িং আক্রমণের মতো বালাই প্রতিরোধে মাঠে অতন্ত্র জরিপ, আলোকফাঁদ ও পাচিং ব্যবহারের মাধ্যমে সতর্ক নজরদারির ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে।


৪. প্রশিক্ষণ ও মানবসম্পদ উন্নয়ন


  • কৃষকদের মধ্যে লাগসই ও টেকসই আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির জ্ঞান হস্তান্তরের জন্য ব্যাপক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি পরিচালিত হয়। নারী কৃষকদের (১৫% নারীসহ) আধুনিক কৃষি প্রযুক্তিতে সম্পৃক্ত করে তাদের ক্ষমতায়ন করা হয়েছে।

  • বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষক পর্যায়ে উন্নতমানের ডাল, তেল ও মশলা বীজ উৎপাদন, সংরক্ষণ ও বিতরণের মাধ্যমে কৃষকদের সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হয়েছে।

এক্সেসিবিলিটি

স্ক্রিন রিডার ডাউনলোড করুন